Life Sketch

এএইচএম নোমান ১৯৪৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারী ভোলার দৌলতখাঁন এর তালুকদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানা সদর আলেকজান্ডারস্থ শিক্ষা গ্রামে তাঁর বাড়ী। বাবা বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও চিকিতসক আলহাজ্জ ডাঃ মফিজুর রহমান (মৃত) । দরদী মনের ধর্মপ্রাণ মা শামছুন্নাহার (মৃত)। তিনি জগন্নাথ কলেজে (৬৪-৬৬) বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এস.আর হল শাখার সভাপতি এবং ঢাকা শহর ছাত্র লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। বি.কম (১৯৬৬) পাশ করে সিএ ফার্ম এ কাশেম এন্ড কোম্পানী থেকে সিএ কোর্স সমাপ্ত করেন। ১৯৬৯ এর গণ অভ্যূত্থানকালে ততকালীন পূর্ব পাকিস্তান চাটার্ড একাউন্টেন্টস স্টুডেন্টস একশন কমিটির আহবায়ক ছিলেন। সিএ পড়া অবস্থায় এএইচএম নোমান ১৯৭০ এর ১২ নভেম্বর ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে লাখ লাখ লোকের প্রাণহানীতে 'ধ্বংস থেকে সৃষ্টি'র শ্লোগান নিয়ে রামগতি তথা বৃহত্তর নোয়াখালীতে ত্রাণ, পুনর্বাসন, পুনর্গঠন, উন্নয়ন ও মানবাধিকার কাজে তখন থেকে নিয়োজিত আছেন।

এএইচএম নোমান (৬৬) বৃহত্তর নোয়াখালী জেলা পল্লী উন্নয়ন সমবায় ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সেক্রেটারী (৭৩-৭৪) এবং রামগতি উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির (বিআরডিবি) প্রতিষ্ঠাতা ও বাস্তবায়নকারী। 'স্বনির্ভর আন্দোলন' তথা 'স্বনির্ভর বাংলাদেশ'র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সংগঠক।'ঢেঁকি ঋণ' তথা ক্ষুদ্র ঋণ উদ্ভাবনে অন্যতম সংগঠক। কোষ্টাল ফিসারফোক কমিউনিটি নিটওয়ার্ক-কফকন এর প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল সেক্রেটারী ও পিপলস্ হেলথ মুভমেন্ট-পিএইচএম বাংলাদেশ সার্কেল এর চেয়ারপার্সন ছিলেন (২০০১-০৪)।

বর্তমানে তিনি নোমান ফেডারেশন অব এনজিও'স ইন বাংলাদেশ-এফএনবি'র নির্বাচিত সিনিয়র সহ-সভাপাতি। উন্নয়ন ও মানবাধিকার নেটওয়ার্ক সংস্থা বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ-বামাসপ এর সভাপতি। জাতীয় এনজিও ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেসন অব দি রুরাল পূয়র-ডরপ এর প্রতিষ্ঠাতা ও সেক্রেটারী জেনারেল। এছাড়া ঢাকাস্থ রামগতি উপজেলা সমিতির সভাপতি এবং লক্ষ্মীপুর জেলা সমিতির জ্যৈষ্ঠ সহ-সভাপতি।

এএইচএম নোমান গরীব মা'দের জন্য 'মাতৃত্বকালীন ভাতা' প্রদান কার্যক্রমের উদ্ভাবক ও অনুশীলক (মে ২০০৫), যা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বাজেট ২০০৭-০৮ এ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি ' মাতৃত্বকালীন ভাতা' জাতীয় ষ্টিয়ারিং কমিটি'র সদস্য। এ ছাড়া ২০ বছর এক প্রজন্ম মেয়াদে দারিদ্র বিমোচনে মাতৃত্বকালীন ভাতা কেন্দ্রিক 'স্বপ্ন প্যাকেজ' কার্যক্রমের উদ্যোক্তা। এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করায় ইতোমধ্যে তিনি 'মাতৃবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। তিনি 'নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক পরিষদ' ও স্বাস্থ্যগ্রাম এর প্রবক্তা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ইমাম প্রশিক্ষন প্রকল্পের আওতায় 'স্বনির্ভর আন্দোলন' এবং দেশের উন্নয়ন ও মানবাধিকার অভিজ্ঞতা প্রসূত লেখা 'সামগ্রিকতার জন্য কিছু বিক্ষিপ্ত কথা', 'সময়ের মানচিত্র', 'দিন বদলের স্বপ্ন' এবং 'ধ্বংস থেকে সৃষ্টি' বই এর রচয়িতা। অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক 'আমার দেশ' পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন (৮০-৮৬)। এএইচএম নোমান ২০০৯ সালে জেলা সমাজকল্যাণ পরিষদ কর্তৃক লক্ষ্মীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ সমাজকর্মী নির্বাচিত হন।

তিনি ৫ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে সকলের বড়। স্ত্রী ডা. রাজিয়া বেগম একজন চিকিতসক। একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান নেদারল্যান্ডে পরিবেশ বিজ্ঞানে মাস্টার্স করে বর্তমানে গবেষণায় রত। দুই মেয়ে জাফরিন হাসান বানিজ্যে মাষ্টার্স করে স্বামী-সংসার নিয়ে ও জেরিন হাসান ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ পড়াশোনা করছেন।

এএইচএম নোমান উন্নয়ন ও মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন সভা সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণের জন্য জাপান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, হংকং, শ্রীলংকা, ভারত, নেপাল, সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, কানাডা, জেনেভা, ইংল্যান্ড, আমেরিকা, গিনি এবং নাইরোবি পরিভ্রমন করেন।